ঢাকা , বুধবার, ১০ জুন ২০২৬ , ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আমিন আমিন ধ্বনি-আখেরী মোনাজাতে শেষ হলো বদরপুর দরবার শরীফের ৮৬তম ঈছালে ছওয়াব মাহফিল


আপডেট সময় : ২০২৬-০২-১৭ ২১:৩৩:৩৯
আমিন আমিন ধ্বনি-আখেরী মোনাজাতে শেষ হলো বদরপুর দরবার শরীফের ৮৬তম ঈছালে ছওয়াব মাহফিল আমিন আমিন ধ্বনি-আখেরী মোনাজাতে শেষ হলো বদরপুর দরবার শরীফের ৮৬তম ঈছালে ছওয়াব মাহফিল
মনজুর মোর্শেদ তুহিন (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
 
জিকির-আজকার, দুরুদ-সালাম আর লাখো কণ্ঠের ‘আমিন’ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠেছিল পটুয়াখালীর ঐতিহ্যবাহী বদরপুর দরবার শরীফ প্রাঙ্গণ। আধ্যাত্মিক আবহে ৮৬তম ঈছালে ছওয়াব মাহফিলের আখেরী মোনাজাতে অংশ নেন লক্ষাধিক ভক্ত-জাকের-আশেক। দেশ ও জাতির কল্যাণ এবং জুলাই আন্দোলনে শহীদদের রুহের মাগফেরাত কামনার মধ্য দিয়ে ১৭ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার বাদ ফজর তিন দিনব্যাপী এই মহাসমাবেশের পরিসমাপ্তি ঘটে।
 
১৪ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া মাহফিলের উদ্বোধন করেন দরবার শরীফের বর্তমান সাজ্জাদানশীন পীর সাহেব কেবলা আল্লামা মুফতী শাহ সাইয়্যেদ মুতাসিম বিল্লাহ রব্বানী বদরপুরী (মাঃজিঃআঃ)। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক উডসাইড আহলুল বাইত মিশন জামে মসজিদ থেকে লাইভে যুক্ত হন মেঝ পীর সাহেব কেবলা আল্লামা মুফতী ড. সাইয়্যেদ মুতাওয়াক্কিল বিল্লাহ রব্বানী (মাঃজিঃআঃ)। উপস্থিত ছিলেন সেঝ পীর সাহেব আল্লামা শাহ সাইয়্যেদ আরিফ বিল্লাহ রব্বানী (মাঃজিঃআঃ), ছোট পীর কেবলা আল্লামা মুফতী শাহ সাইয়্যেদ নাসির বিল্লাহ রব্বানী (মাঃজিঃআঃ) এবং মাহফিলের সভাপতি হাজী সাইয়্যেদ নাজমুস সায়াদাত আখন্দসহ দেশ-বিদেশের খ্যাতিমান পীর-ওলামা মাশায়েখগণ।
 
তিন দিনব্যাপী কর্মসূচিতে ছিল মরহুম পীর সাহেবদের মাজার জিয়ারত, তা’লিমী জলসা, হালকায়ে জিকির, পবিত্র কোরআন খতম, খতমে তাহলিল, খতমে খাজেগান, খতমে আম্বিয়া ও খতমে গাউসিয়া শরীফ, মিলাদ মাহফিল, সালাতু সালাম ও দুরুদ-কিয়াম। ১৫ ও ১৬ ফেব্রুয়ারি দিনভর ও সারারাত ধর্মীয় আলোচনা ও ওয়াজ মাহফিলে ঈমানী জোশে আপ্লুত হন উপস্থিত মুসল্লিরা।
 
শতাধিক বছরের ঐতিহ্য বহনকারী এই দরবার শরীফের ভিত্তি স্থাপন করেন কুতুবে বাঙ্গাল শাহ সুফী হযরত মাওলানা সাইয়্যেদ উসমান গনী বদরপুরী (রহঃ)। তাঁর পূর্বসূরি সাইয়্যেদ কুরবান আলী (রহঃ) প্রায় আড়াইশ বছর আগে ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে এ ভূখণ্ডে আগমন করেন। পরবর্তীতে বরিশাল বিভাগের প্রথম মুফতী আল্লামা শাহ সাইয়্যেদ আব্দুর রব চিশতী বদরপুরী (রহঃ) দ্বীনি শিক্ষা বিস্তার ও সমাজ সংস্কারে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। তাঁদের উত্তরসূরিরাই আজ সেই আধ্যাত্মিক ধারা বহন করে চলেছেন।
 
মাহফিল থেকে ঘোষণা করা হয়, প্রতিবছরের ন্যায় আগামী বছরও নির্ধারিত সময়ে এ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। তবে রমজান মাসে অনুষ্ঠিত হওয়ায় আখেরী মোনাজাত ফজরের নামাজের পর সম্পন্ন হবে।
 
আয়োজকরা বলেন, শত বছরের আধ্যাত্মিক এ ধারা যেন আরও সুদৃঢ় ও বিস্তৃত হয়—সে জন্য সবার দোয়া ও সহযোগিতা কাম্য।

নিউজটি আপডেট করেছেন : Banglar Alo News Admin

কমেন্ট বক্স

প্রতিবেদকের তথ্য

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ